কৃষি বিল কি কৃষক স্বার্থে?

দ্বিতীয় অংশ

২৫.০২.২০২১

দিল্লির উপকণ্ঠে কৃষক আন্দোলন

আগের অংশে দেখেছি ভারতের কৃষি ব্যবস্থায় উদারনৈতিক সংস্কারের জন্য সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্ব ব্যাঙ্ক, ইত্যাদিরা কতটা ব্যগ্র। তারা চাইছে ভারতের কৃষি বাজার বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য একেবারে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক এবং কৃষকদের থেকে সরকার নির্ধারিত দামে খাদ্য ফসল সংগ্রহ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হোক।

তাদের এবং দেশের পুঁজিপতি শ্রেণির অন্যান্য আকাঙ্ক্ষাগুলি হল: এমন এক কৃষি সংস্কার করা হোক যাতে চাষিদের থেকে পুঁজিবাদী বাজারি নিয়মে বেসরকারি ব্যবসায়ী, কর্পোরেট, বহুজাতিক পুঁজি ফসল কিনে নিতে পারে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি করতে পারে। আন্তর্জাতিক মুক্ত বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করে এবং তার ফলে বহুজাতিক ও কর্পোরেট খাদ্য কোম্পানিগুলি কী ব্যাপক হারে মুনাফা করে তার দৃষ্টান্ত মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার ভুক্তভোগী দেশগুলি। এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকার ফসলের দাম নির্ধারিত (সহায়ক মূল্য) করে দেওয়ার ফলে মান্ডির বাইরে খোলা বাজারেও দাম বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে সামগ্রিকভাবে খাদ্যফসলের দাম মোটামুটি এক রকম নিয়ন্ত্রণে থাকে (যদিও ভারতের অগণিত গরিব সে ফসল কিনতে না পেরে অর্ধাহার-অনাহারে থাকে)। এছাড়া, সরকার নির্ধারিত দামে ফসল কিনে নিয়ে একটি আপৎকালীন মজুত ভাণ্ডার গড়ে তোলে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলি সেই মজুত ভাণ্ডার ও গণবণ্টন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার জন্য অন্তহীন চাপ প্রয়োগ করে চলেছে।

পূর্বতন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার ২০১৩ সালে খাদ্য নিরাপত্তা বিল এনে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ (৬৭ শতাংশ) মানুষকে তার সঙ্গে যুক্ত করে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৩ টাকা দরে চাল-গম সহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। বলা বাহুল্য, এইসব সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার না-পসন্দ। রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা ইউএনডিপি-র ২০১৬ সালের ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ভারত সরকারকে সতর্ক করে বলেছে, ‘‘খাদ্যের অধিকার’’ খুব ভাল কথা, কিন্তু তা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধিকে ‘‘লঙ্ঘন করেছে’’। এর ফলে ভারতের খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টনে ভরতুকি বাড়বে, যার ফলে সদস্য দেশগুলি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে ‘‘নিষেধাজ্ঞা’’ বসাতে পারে।

মোদী সরকার কী চেয়েছে

প্রকৃতপক্ষে, শুধু বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ভ্রূকুটি নয়, খাদ্য নিরাপত্তা বিল ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারে আসীন বিজেপি সরকারের কাছে আদৌ কাঙ্ক্ষিত ছিল না। ক্ষমতায় এসেই ২০১৪ সালের ২০ আগস্ট মোদী সরকার বিজেপি সাংসদ শান্তা কুমারের নেতৃত্বে ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (FCI)-র পুনর্বিন্যাস ঘটাতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। কমিটি সুপারিশ করে, যে সমস্ত রাজ্যে ফসল সংগ্রহের ধারাবাহিক ও সুগঠিত ব্যবস্থা আছে, সেই সব রাজ্য থেকে এফসিআই হাত গুটিয়ে নেবে। দেশের ৬৭ শতাংশ মানুষকে ভরতুকিতে খাদ্য দেওয়া যাবে না, সংখ্যাটা ৪০ শতাংশ নামিয়ে আনতে হবে। দামও বাড়াতে হবে। চাষিদের থেকে যে ন্যূনতম সহায়ক দামে খাদ্য সংগৃহীত হয় তার অর্ধেক দামে গ্রাহকদের খাদ্যফসল বিক্রি করা হবে, ইত্যাদি। বলা বাহুল্য, শান্তা কুমার কমিটির সুপারিশগুলি বিশ্ব ব্যাঙ্কের নির্দেশনামার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

এফসিআই-এর গঠনের পিছনে একটি সামাজিক মঙ্গলের কাহিনী আছে। ১৯৬৫ সালে দেশে ব্যাপক মাত্রার খাদ্য সংকট দেখা দিলে সরকার খাদ্যফসল সংগ্রহ, আপৎকালীন মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এফসিআই গঠন করে। এছাড়া, আমেরিকা থেকে পিএল-৪৮০ প্রকল্প অনুযায়ী গম আমদানিতে সায় দেয় (এই সুযোগে আমেরিকার রপ্তানিকারকরা তাদের উদ্বৃত্ত গম রপ্তানি করে বেশ কিছুটা কামিয়ে নেয়) এবং দেশে সবুজ বিপ্লবের মডেল আমদানি করে। স্বয়ং শান্তা কুমার নেতৃত্বাধীন কমিটি জানিয়েছে, এফসিআই-এর তিনটি সামাজিক উদ্দেশ্য ছিল:

১) কৃষকদের জন্য কার্যকরী দামের নিশ্চয়তা,

২) সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশের হাতে গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভরতুকি-যুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে খাদ্যফসল সংগ্রহ ও বণ্টন,

৩) মৌল খাদ্যদ্রব্যের আপৎকালীন ভাণ্ডার গড়ে তোলা যাতে বাজার স্থিতিশীল থাকে।

বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের মতে উপরোক্ত সামাজিক উদ্দেশ্য এখন বাহুল্য মাত্র।

এখন সরকার বলছে দেশে খাদ্যফসলে আর কোনও ঘাটতি নেই, শস্যভাণ্ডার এখন উপচে পড়ছে। এফসিআই-এর গুদাম থেকে প্রচুর ফসল নষ্ট হচ্ছে, তাই শস্যভাণ্ডার বজায় রাখা না কি আখেরে ক্ষতিকর। এছাড়া, বলা হচ্ছে দেশের হাতে না কি এতটাই বিদেশী মুদ্রা সঞ্চিত আছে যে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে খাদ্যফসল আমদানি করা না কি কোনও ব্যাপারই নয়। সুতরাং, সরকার মনে করেছে, চাষিদের মুক্ত বাজারে ফসল বেচার ‘স্বাধীনতা’ প্রয়োজন যাতে চাষিরা অনেক লাভ করতে পারে। অন্যদিকে, গণবণ্টন ব্যবস্থা থাকবে নাম-কা-ওয়াস্তে, প্রয়োজনীয় খাদ্যফসল না কি বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে! এফসিআই যাতে ক্রমে ক্রমে লালবাতি জ্বালে তার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে না কি ‘আত্মনির্ভর’ ভারত গড়ে উঠবে!

দেশের গরিব মানুষের প্রকৃত অবস্থা

ভারতের কৃষকদের সংকট

সরকারের যুক্তিগুলি কাটাছেঁড়া করা যাক। দেশে খাদ্যভাণ্ডার উপচে পড়ছে, অথচ দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ অর্ধাহার-অনাহারে ভুগছে কেন? কেনই বা কোটি কোটি মানুষ অপুষ্ট? যেমন,

ক) ২০১৫-১৬ সালের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভে জানাচ্ছে, দেশের ৩৬ শতাংশ শিশু কম ওজন-সম্পন্ন এবং ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের ৫৮ শতাংশ রক্তাল্পতায় ভুগছে। সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির অন্যতম দোসর ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের চাইবাসাতে শিশুদের হাড়িয়া খাইয়ে রাখা হয় যাতে তাদের ভাত খাবার ইচ্ছা কমে যায়। ঝাড়খণ্ডে ৪৮ শতাংশ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু অপুষ্টিতে ভোগে।

খ) ভারতে ১৯৯১ সালে মাথাপিছু খাদ্যপ্রাপ্তি ছিল বছরে ১৮৬.২ কেজি। ২০১৬ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৭৭.৭ কেজিতে। এমনকি ১৯০৩-১৯০৮, অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে মাথাপিছু খাদ্যপ্রাপ্তি ছিল বছরে ১৭৭.৩ কেজি! অর্থাৎ, এখনকার বুভুক্ষু মানুষের অবস্থা ব্রিটিশ যুগের দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সমতুল্য।

গ) ১৯৯১ সালে প্রতিদিন মাথাপিছু খাবার মিলত ৫১০ গ্রাম। ২০১৮ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা জানিয়েছে তা এখন প্রতিদিন মাথাপিছু ৪৮৭ গ্রাম!

ঘ) গ্রামীণ ভারতে ২০১১-১২ সালে খাদ্যদ্রব্যের পিছনে প্রতি মাসে মাথাপিছু ব্যয় করার ক্ষমতা ছিল ৬৪৩ টাকা। ২০১৭-১৮ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮০ টাকা। এই সময়ের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। সুতরাং ব্যয় হওয়ার কথা অনেকটা বেশি। মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও এই হ্রাস দেখায় গ্রামীণ ভারতের মানুষ আরও ক্ষুধার্ত। মোদী সরকারের অন্যতম তাঁবেদার একটি পত্রিকা ইকনমিক টাইমস প্ল্যানিং কমিশনের প্রাক্তন প্রধান অভিজিত সেনের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, গ্রামীণ ভারত আরও বেশি পরিমাণে অপুষ্টিতে ভুগছে।

ঙ) বিশ্ব ক্ষুধার তালিকায় ১০৭টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৯৪তম!

বস্তুত, দেশের শস্যভাণ্ডার ‘উপচে পড়লেও’ দেশের গরিব মানুষদের সে খাবার কিনে খাওয়ার ক্ষমতা নেই। এমনকি ২০১৩ সালে খাদ্য নিরাপত্তা বিলে ৬৭ শতাংশ মানুষের জন্য গণবণ্টন ব্যবস্থা থেকে খাদ্য বিতরণের ব্যবস্থা করা হলেও গরিব মানুষ থেকে গেছে সেই তিমিরেই। প্রকৃত অর্থে ‘উপচে পড়া’ খাদ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে গরিবদের ক্ষুধা নিবৃত্তি সরকারের অ্যাজেন্ডাতে নেই। দেশে খাদ্য ‘উপচে পড়ছে’ বলার মধ্যে তাদের অন্য কোনও পরিকল্পনা আছে যা গরিব মানুষের স্বার্থবাহী নয়।

সরকারের দাবি ও কঠোর বাস্তবতা

প্রকৃতপক্ষে, সরকার চায়, খাদ্যফসল উৎপাদন থেকে চাষিদের ক্রমশ সরিয়ে এনে এমন চাষে নিয়োজিত করা যার দেশীয় বড়লোকদের বাজারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা আছে। যেমন, ফল, ফুল, সব্জি, তৈলবীজ, মাছ, বাগিচা ফসল, ইত্যাদি। এছাড়া সরকার চায়, ভারতের খাদ্যফসল উৎপাদনের বাজারকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে যাতে ‘প্রয়োজন মতো’ বিদেশ থেকে খাদ্যফসল আমদানি করা যায় অথবা এখানকার ‘উদ্বৃত্ত’ ফসল (যে ফসল ভারতের গরিব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে) বিদেশে রপ্তানি করা যায়। এর ফলে একমাত্র লাভবান হবে ভারতের বেসরকারি পুঁজি বা কর্পোরেট সংস্থা এবং বিদেশী বহুজাতিক পুঁজি। চাষিদের থেকে তারা যাতে ফসল কিনে নিতে পারে তার বন্দোবস্তই কৃষি বিলে করা হয়েছে।

‘প্রয়োজনে’ বিদেশ থেকে খাদ্যফসল আমদানি করার মতো অঢেল বিদেশী পুঁজি না কি ভারতে এখন আছে। একটু চোখ কান খোলা রাখা মানুষ জানেন ভারতের অর্থনীতি গত দুই বছর ধরে ধুঁকতে থাকলেও (অতিমারির সময় যা সংকুচিত হয়েছে) ভারতের শেয়ার বাজারে বিদেশী বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও বিনিয়োগ) উপচে পড়ছে। এবং এ কথাও অনেকেই জানেন, এই পুঁজি যখনই বিপদ-সংকেত পাবে, তখনই এ দেশ থেকে পুঁজি তুলে উধাও হয়ে যাবে। এই ধরনের ঘটনা অতীতে বহুবার ঘটেছে। ফলে ভারতের বিদেশী মুদ্রার ভাণ্ডার প্রকৃতই বুদবুদের মতো, কখন ফেটে পড়বে তা কেউ জানে না।

‘প্রয়োজনে’ ভারত যদি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যফসল কিনতে শুরু করে, তবে ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যা সমৃদ্ধ দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত হওয়ার ফলে খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা বহুগুণে বাড়বে। ফলে খাদ্যফসলের দাম চড়চড় করে বাড়তে শুরু করবে। বিপুল মুনাফা করবে আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়ার মতো খাদ্যফসল রপ্তানিকারক দেশ এবং তাদের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। ভারতের গরিব জনগণকে সেই চড়া দামের খাদ্যফসল হয় কিনে খেতে হবে, অথবা দুর্ভিক্ষপীড়িত হয়ে মরতে হবে।

ভারতে সরকার-নির্ধারিত সহায়ক মূল্য থাকার কারণে এবং কয়েকটি খাদ্যপণ্যকে অত্যাবশ্যক পণ্য আইনের অন্তর্ভুক্ত করার কারণে ভারতে চাল, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজের মতো খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে। এখন সরকার শুধু নির্ধারিত সহায়ক মূল্যই তুলে দিচ্ছে না, অত্যাবশ্যক পণ্য আইনের বাইরে বেশ কিছু পণ্যকে নিয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে, এই সমস্ত খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে থাকবে। সম্প্রতি আলুর দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যা দেখা গেছে। সরকার বলছে এতে না কি চাষির লাভ হবে। বাস্তব হল, ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ চাষি এতটাই গরিব যে তাদের হয় গণবণ্টন ব্যবস্থা অথবা খোলা বাজারের উপর নির্ভর করতে হয় খাদ্যদ্রব্যের জন্য। তাই সরকার এখানেও চাষিদের ভাঁওতা দিচ্ছে।

এফসিআই গুদামে খাদ্যফসল নষ্ট হলে কিংবা পরিবহণ ও বণ্টনে তা নষ্ট হলে কি স্বয়ং এফসিআই-কেই তুলে দিতে হবে না কি তাকে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে? প্রকৃতপক্ষে, এফসিআই-এর অদক্ষতার জন্য দায়ী আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা তথা সরকার নিজে। নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশ্নকে আড়াল করে সরকার আসলে এফসিআই গঠনের সামাজিক উদ্দেশ্যকেই জলাঞ্জলি দিচ্ছে। গরিবদের খোলা বাজারে ঠেলে দিচ্ছে না খেয়ে মরার জন্য।

প্রকৃতপক্ষে, ভারতের কৃষকরা গভীরভাবে সংকটগ্রস্ত। এই সংকট থেকে বেরোনোর নামে সরকার তাদের আয় বা লাভ বাড়ানোর জন্য যে দাওয়াই দিয়েছে তার ফলে চাষিদের অবস্থা হয়ে উঠবে আরও সঙ্গীণ। এই সংকটগ্রস্ত চাষিদের কথা বলা হবে পরের অংশে।

(ক্রমশ)

সূত্র:

১। https://www.counterview.net/2017/03/indias-food-security-law-is-against-wto.html; ২৫.০৩.২০১৭, সংগৃহীত ২৬.০৩.২০১৭।

২। https://www.livemint.com/Opinion/RJbHMlsxLygmfJaTor93EL/FCI-reforms-prescription-to-cure-or-kill.html; ২৭.০১.২০১৫, সংগৃহীত ৩০.০১.২০১৫।

৩। https://pib.gov.in/newsite/PrintRelease.aspx?relid=114860; ২২.০১.২০১৫, সংগৃহীত ৩১.১২.২০২০।

৪। https://www.newsclick.in/India-Needs-Stronger-Wider-Public-Procurement-Policy-Feed-Poor; ২৮.১২.২০২০, সংগৃহীত ৩১.১২.২০২০।

৫। https://www.weforum.org/agenda/2020/01/fighting-malnutrition-from-the-grassroots-of-india/; ১৮.০১.২০২০, সংগৃহীত ০৫.০২.২০২১।

৬। https://www.downtoearth.org.in/news/food/india-claims-to-be-self-sufficient-in-food-production-but-facts-say-otherwise-62091; ১৫.১১.২০১৯, সংগৃহীত ৩১.১২.২০২০।

৭। পূর্বোক্ত।

৮। https://economictimes.indiatimes.com/news/economy/indicators/consumer-spending-declines-for-first-time-in-four-decades/articleshow/72069291.cms?from=mdr; ১৬.১১.২০১৯, সংগৃহীত ৩১.১২.২০২০।

৯। https://www.downtoearth.org.in/blog/food/global-hunger-index-why-is-india-trailing–73920; ২৩.১০.২০২০, সংগৃহীত ৩১.১২.২০২০।

Tags :