এই বিপর্যয় কাদের সৃষ্টি?

‘‘এটা হল মানুষের সৃষ্টি সর্বনাশা বিপর্যয়’’ – দিল্লির জয়পুর গোল্ডেন হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ঠিক এই ভাষাতেই সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল এই হাসপাতালে ২০ জন কোভিড রুগী অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে মারা গেছে। একই দিনে অমৃতসর নীলকণ্ঠ হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছে ছয় জন। মহারাষ্ট্রে দুইজন। ২৩ তারিখে দিল্লির শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালে ২৫ জন। এ যেন মৃত্যুমিছিল!

গত দশ দিন ধরে সারা দেশের নানা হাসপাতালে অক্সিজেনের নিদারুণ অভাব সংবাদপত্রে এক নাগাড়ে প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লির জয়পুর গোল্ডেন হসপিটাল কিংবা শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতাল বেসরকারি – যেখানে বহু টাকা খসিয়ে ভর্তির সুযোগ মেলে, সেখানেই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে সারা দেশের ছোট-বড় সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির অবস্থা কতটা শোচনীয় তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কোথাও ফুটপাথে কোভিড রুগী পড়ে রয়েছে নাকে অক্সিজেনের নল গুঁজে। কোথাও ভ্যানরিক্সার উপর নাকে নল গুঁজে রুগী মরণযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। কোথাও অক্সিজেনের সন্ধানে রুগীর আত্মীয়-পরিজন হন্যে হয়ে মরিয়া হয়ে ছুটোছুটি করছে। চতুর্দিকে প্রায় হাহাকার পড়ে গিয়েছে। শ্মশানে শবদেহের লাইন পড়ে গেছে। শ্মশানে স্থানাভাবে ফুটপাথে, পার্কে সৎকার হচ্ছে এমন চিত্রও সংবাদ মাধ্যমে দেখা গেছে।

দেশটা ভারতবর্ষ, সময়টা ২০২১ সাল। অর্থাৎ ১৯১৮ সালে ভারত জুড়ে যে ভয়ংকর স্প্যানিশ ফ্লু দেখা দিয়েছিল এবং ঔপনিবেশিক সরকারের চূড়ান্ত অপদার্থতা ও অমানবিক আচরণের ফলে ভারত ভূখণ্ডে কয়েক লক্ষ মানুষ প্রাণত্যাগ করেছিল – এটা সেই সময়কার কোনও ছবি নয়। এটা একবিংশ শতাব্দীর অবতার নরেন্দ্র দামোদর মোদীর শাসনাধীন ভারতবর্ষ – যেখানে পথে-ফুটপাতে-গ্রামে-গঞ্জে-বিজ্ঞাপনে এক জনেরই ছবি শোভা পায় – যিনি ভারতে ‘অচ্ছে দিন’ এনে দিচ্ছেন, ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছেন!

কোভিড-১৯ অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ-এর এই মারণাত্মক চেহারা হঠাৎ কোনও সংক্রমণ নয়। ২০২০ সালে ভারতে করোনা অতিমারি আছড়ে পড়ার পর ১৩ মাস অতিক্রান্ত। বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞরা গত বছরের শেষ দিক থেকে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সতর্কতা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাথায় যাঁরা বসে আছেন, ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী, গবেষক-বিজ্ঞানীরা – এমনকি বহু সাধারণ মানুষ গত ১৩ মাসে জেনে গেছেন এই অতিমারিকে মোকাবিলা করতে হলে কী কী করা দরকার। মুখে মাস্ক, নিয়মিত হাত ধোওয়া, জ্বর এলে তিন-চারদিনের মধ্যে সোয়াব পরীক্ষা করা, করোনা পজিটিভ হলে নিভৃতবাসে যাওয়া, অক্সিজেনের ঘাটতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, অবস্থা গুরুতর হলে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা, অক্সিজেন শয্যা, ভেন্টিলেটর, ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা – এইসব অতি প্রয়োজনীয় কর্তব্যগুলি আমলা-পরিবৃত বড়-ছোট সব মন্ত্রী মহোদয়ের জ্ঞাত থাকার কথা। কিন্তু, আসলে সরকার-আমলা-মন্ত্রী মহোদয়রা হয় ঘুমোচ্ছেন বা অন্য কাজে এতই ব্যস্ত রয়েছেন যে অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউকে মোকাবিলা করার মতো ন্যূনতম সচেতনতা-সক্রিয়তা-মানবিকতা তাঁদের থেকে দেখা গেল না।

গত ১৩ মাসে এই পোড়া দেশে কত না আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে গেল! করোনা সংক্রমণের আবির্ভাবের পর হাসপাতালে শয্যা, পিপিই, চিকিৎসা ব্যবস্থা, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পরিবর্তে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীর অশ্রুসজল আহ্বানে থালা-বাটি বাজানো, রাত নটার সময় ঘর অন্ধকার করে মোমবাতি-প্রদীপ জ্বালানো, হাসপাতালের মাথায় পুষ্পবৃষ্টি, করোনা ভাইরাস তাড়ানোর লক্ষ্যে মন্ত্রী-সান্ত্রীর, নেতা-দাদাদের পূজার্চনা, মন্ত্র আবৃত্তি। একই সময়ে দেখা গেল কয়েক ঘণ্টার নোটিশে লকডাউন জারি করার ফলে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের মরিয়া হয়ে ঘরে ফেরার চেষ্টা, রাস্তায় ট্রেনের লাইনে বেঘোরে মারা পড়া, তাদের বাড়ি ফেরার ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকা, অর্থনীতি রুদ্ধ হয়ে পড়া, বেকারি আকাশছোঁয়া হওয়া, না খেতে পাওয়া। করোনা সংক্রমণ সামান্য মাথা নত করার অবসরে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষিত হল, সেখানে নির্বাচনে জয়লাভ করলে সকলের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাক্সিন বিলি করার প্রতিশ্রুতির ফোয়ারা ছুটল। সংক্রমণের মধ্যে নির্বাচন হল, শাসক দল জিতে গেল, প্রতিশ্রুতির কথা মন্ত্রীমহোদয়রা বেমালুম ভুলে গেলেন।

আরও কত কি ঘটে গেল! মধ্যপ্রদেশে বিধায়ক তথা ঘোড়া কেনাবেচায় মত্ত অবতারবৃন্দ ভুলে গেলেন করোনার থাবা হামলা চালাতে শুরু করেছে। ধুমধাম করে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমিপূজা অনুষ্ঠিত হল। গরদের পোষাক পরিবৃত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে পূজার্চনা করলেন। লকডাউনের মধ্যেও আমবানি-আদানিদের বৈভব এত বিপুল পরিমাণে স্ফীত হল যে তারা বিশ্বের সেরা অর্বুদপতিদের তালিকায় জায়গা করে নিল। রামদেবের অবৈজ্ঞানিক করোনা-বটিকাকে সমাদরে চালু করার চেষ্টা হল। পুঁজিপতিদের সেবায় শ্রমিক-মারা শ্রম আইন পাশ হয়ে গেল। কৃষকদের সর্বনাশ করে এবং কর্পোরেটদের অতি মুনাফার লক্ষ্যে কৃষি বিলও পাশ হয়ে গেল সংসদে। প্রতিবাদে লক্ষ লক্ষ কৃষক ঐতিহাসিক অবরোধে সামিল হলে তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ না করে অবতার ও মন্ত্রী মহোদয়গণ অতিব্যস্ত হয়ে পড়লেন ‘দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ ঘটনা বাংলা সহ পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনে। মাঝে তাঁরা ব্যাঙ্ক, রেল সহ নানা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেচে দেওয়ার পরিকল্পনাও করে নিলেন।

অবতার নরেন্দ্র মোদী পাঁচটি প্রদেশে, বিশেষত বাংলায় ৩০টির বেশি লক্ষাধিক মানুষের জনসভায় করোনা বিধিকে তুড়ি মেরে গলায় গামছা, থুড়ি, উত্তরীয় পড়ে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ছোটালেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোড শো করে রাস্তায় রাস্তায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ালেন ভোট প্রার্থনায়। ‘পোড়া বাংলাকে’ সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার ঘনঘন অঙ্গীকার শোনা গেল। বাংলার সব সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করা হল। কর্পোরেট ও পিএম কেয়ার থেকে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকা ঢেলে আইটি সেল প্রচার ও অপপ্রচারে তুফান তুলে দিল। তোতাপাখি নির্বাচন কমিশন অবতারের বাংলা দখলের লক্ষ্যপূরণে করোনা বিধিকে কলা দেখিয়ে আট দফায় নির্বাচনে স্থিরপ্রতিজ্ঞ হয়ে রইল। নিবেদিত কমিশন-প্রধান সুনীল অরোরা অবসর গ্রহণের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অবতারের থেকে আনুগত্যের পুরস্কার স্বরূপ গোয়ার রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হয়ে গেলেন। লাজ-লজ্জা, বিবেকের দহন-দংশন নির্বাসিত হল।

এরই মধ্যে মহা ধুমধামে হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় লক্ষ লক্ষ ভক্তবৃন্দের জনসমাগম সংগঠিত করা হল। করোনা ভাইরাস প্রথমে লজ্জায় মুখ লুকোলেও এত ভক্তিশ্রদ্ধা তাকে দমিয়ে রাখতে পারল না। যে সাধু-সন্ন্যাসীদের ভজন-পূজনে অসুখ-রোগ ভয়ে পালায় আশ্চর্যজনকভাবে সেই সাধুসাধ্বীরাও করোনায় সংক্রামিত হতে শুরু করলেন এবং বিস্ময়কর ভাবে মারাও গেলেন! এত লক্ষ জনসমাগমে কিছু অর্বাচীন প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু ২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী মহাকুম্ভে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সাদর অভ্যর্থনা জানালেন। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পরম ভক্তিভরে জানালেন, এই মহাকুম্ভে মা গঙ্গায় এক ডুব দিলেই না কি করোনা ভাইরাস পালাবে! ভাইরাস কিন্তু পালায়নি। অথচ ঠিক এক বছর আগে দিল্লির এক মসজিদে আন্তর্জাতিক এক ধর্ম সম্মেলনকে কেন্দ্র করে হই চই পড়ে গিয়েছিল। একটি বিশেষ সম্প্রদায় না কি করোনা-জেহাদ ছড়াচ্ছে! কোনও কোনও গেরুয়া মন্ত্রী তাদের গুলি করে মারার নিদানও দিয়েছিলেন। কিন্তু এক মহাকুম্ভ সব কিছু ভুলিয়ে দিল। দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যিনি মাঝেমধ্যে হর্ষ বর্ধন করে থাকেন, তিনি মার্চ মাসে জানিয়েছিলেন, করোনা সংক্রমণ শেষ হয়ে গিয়েছে।

গত এক বছরে অনেক কিছু করার ছিল। অনেক প্রস্তুতির দরকার ছিল। হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কথা হয়েছিল। কিন্তু এত ‘ব্যস্ততার’ মধ্যে অবতার ও মন্ত্রী মহোদয়রা তা বাস্তবায়িত করে উঠতে পারলেন না। ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাতে অর্থ বরাদ্দ হয়নি। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের দরকার ছিল। তাতেও খরচ করা হয়নি। ভঙ্গুর স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শক্তপোক্ত করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ হয়নি। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ হয়েছে নতুন ঝাঁ চকচকে সংসদ ভবনের জন্য। কুড়ি হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের জন্য। সীমান্তে রণধ্বনি বাজানোর জন্য রাফাল (তাতে না কি বেজায় দুর্নীতি!) কেনা হয়েছে। অবতারের নামে স্টেডিয়াম হয়েছে এবং তাতে ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শক ঘোর সংক্রমণের মধ্যে খেলা দেখেছে। অবতারের ভ্রমণের জন্য জেট প্লেন কেনা হয়েছে। তাঁদের নীতিসমূহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের ইউএপিএ বা এনআইএ কেস দিয়ে জেলে ভরা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন, অক্সিজেনের অভাব সম্পর্কে ‘ভুয়ো’ রিপোর্ট দিলে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক করা হবে। (দ্য হিন্দু, ২৫.০৪.২০২১) নাগপুরের সঙ্ঘ সদর দপ্তর থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, এই সময়ে ‘‘ধ্বংসাত্মক ও ভারত-বিরোধী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে’’ সতর্ক থাকতে হবে। (দ্য হিন্দু অনলাইন, ২৪.০৪.২০২১) অর্থাৎ অপদার্থতার বিরুদ্ধে সমালোচনা তাঁদের না-পসন্দ।

ভ্যাক্সিন যাতে সবাই বিনা মূল্যে পায় তার ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন ছিল। বিহার নির্বাচনে বিনা মূল্যে ভ্যাক্সিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। এখন বাংলার নির্বাচনেও এমন গাজর ঝোলানো হয়েছে। আশা করি, নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতিরও পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটবে। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৮ শতাংশ ভারতবাসী প্রথম ডোজের ভ্যাক্সিন পেয়েছে। মাত্র ১.৪ শতাংশ পেয়েছে দ্বিতীয় ডোজ। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩৭ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাক্সিন পেয়েছে। (দ্য ওয়্যার, ২৪.০৪.২০২১) এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৫০ টাকায় ভ্যাক্সিন মিলছে। মে মাস থেকে তাও মিলবে না। ভ্যাক্সিন প্রস্তুতিতে সরকার জনগণের করের টাকা ঢেলেছে। কিন্তু তা বিনা পয়সায় পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ জনগণকে ডবল পয়সা দিয়ে তা কিনতে হবে। ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি চায় শুধু মুনাফা নয়, অতিমুনাফা। তাই কোভ্যাক্সিন মে মাস থেকে রাজ্য সরকারকে দেওয়া হবে ৬০০ টাকায়, বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ১২০০ টাকায়। (টাইমস অব ইন্ডিয়া, ২৫.০৪.২০২১) প্রকৃতপক্ষে ভ্যাক্সিনের উপর কোনও সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। খোলা বাজারে ভ্যাক্সিনের কালোবাজারি চলবে। ইতিমধ্যে করোনা চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-বায়োটিক বাজার থেকে উধাও হতে শুরু করেছে। কালোবাজারি শুরু হয়েছে এমন খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

অক্সিজেন উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে সরকারের অপদার্থতা এত চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে গেছে যে, দিল্লির হাই কোর্ট সরকারকে বলেছে: ‘ভিক্ষে করে, ধার করে, চুরি করে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করুন। আপনাদের হাতে রক্তের দাগ লেগে থাকবে।’ (আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২.০৪.২০২১) গুজরাট, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র হাইকোর্ট সমস্বরে সরকারগুলিকে তিরষ্কার করেছে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় তিরষ্কার করে জানিয়েছে নির্বাচনের অনুষ্ঠান করে করোনা সংক্রমণ তীব্রতর করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে মার্ডার চার্জ আনা উচিত। (ইকনমিক টাইমস অনলাইন, ২৬.০৪.২০২১) হাইকোর্টগুলি যখন ‘‘অক্সিজেন কোথায়’’ প্রশ্ন তুলল, জানা গেল অবতারবৃন্দ তখন বাংলার নির্বাচনে অতিব্যস্ত। বাংলায় কেন এইভাবে নির্বাচন নামক ‘গণতন্ত্রের মহা উৎসবে’ সংক্রমণ তীব্র গতিতে ছড়াবে তা নিয়ে হাইকোর্টের সমালোচনায় নির্বাচন কমিশন ও সংসদীয় দলগুলি একটু নড়ে চড়ে বসলেও মহানায়ক ও মন্ত্রীদের জনসভার কমতি নেই। হাইকোর্টগুলির তিরষ্কারে বিদ্ধ হয়ে অবতার ও মন্ত্রীমহোদয়গণ এখন দেশে অক্সিজেন উৎপাদন ও সরবরাহের হালহকিকত জানতে বসেছেন। বিদেশ থেকে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সামগ্রী আনার জন্য আমলাদের উদ্যোগী হতে বলছেন। অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো যায় কি না সে ব্যাপারে এতদিন পর খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন।

কিন্তু সংক্রমণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এখনই বাড়ছে দিনে সাড়ে তিন লাখ করে। মে মাসের ১৫ তারিখে মোট আক্রান্তের সংখ্যা না কি ৪৮ লাখে দাঁড়াবে। (টাইমস অব ইন্ডিয়া, ২৬.০৪.২০২১) উচ্চবিত্তরা এখনই চাটার্ড বিমান ভাড়া করে দেশ থেকে পালাতে শুরু করেছে।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যাঁরা সরকার গঠন করে অবতারে পরিণত হয়েছেন তাদের জানানো দরকার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার তাদের নেই। কথাগুলি দেশের তামাম জনতা বলতে শুরু করলে তাঁরা পালাবার পথ খোলা রেখেছেন তো?

Tags :